Gopalganj Sadar, Gopalganj, Bangladesh.
শিক্ষিকা ও কর্মচারী বিধি-বিধান ও নিয়মাবলীসমুহ

11 Jun, 2020 | Total views : 183

মালেকা একাডেমি
গোপালগঞ্জ

 

একাডেমির বিধি-বিধান ও নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীগণ নিম্নে বর্ণিত আইনকানুন যথাযথভাবে পালন করতে বাধ্য থাকবেন
বিধি-বিধান ও নিয়মাবলীসমুহ

১। একাডেমির নিয়মাবলীসমুহ শিক্ষক-শিক্ষিকা/কর্মচারীগণ যথাযথভাবে মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন। একই ত্রুটি পরপর তিনবার সংঘটিত হলে তিনি চাকুরীচ্যূত হবেন।

২। একাডেমির কোন শিক্ষক বা কর্মচারীর দ্বারা একাডেমির মধ্যে কোন প্রকার উপদলীয় কর্মকান্ড বরদাস্ত করা হবে না। একাডেমির চেইন অব কমান্ড প্রত্যেককে মেনে চলতে হবে।

৩। শিক্ষক-কর্মচারীগণ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রতি সর্বদা সম্মান প্রদর্শন এবং দিক নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে বাধ্য থাকবেন।

৪। একাডেমির শৃংখলা ভঙ্গ/অসদাচরণের দায়ে কর্মকর্তা/শিক্ষক/কর্মচারী ০১ মাসের অগ্রিম বেতন প্রদান সাপেক্ষে চাকুরীচ্যূত হবেন।

৫। শিক্ষার্থীকে কোন ধরনের শারীরিক বা মানসিক শাস্তিপ্রদান/তিরস্কার বা তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে তাৎক্ষণিকভাবে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

৬। একাডেমিতে ভর্তিচ্ছু কোন শিক্ষার্থীকে একাডেমির কোন শিক্ষক বা তার পরিবারের কেউ এককভাবে প্রাইভেট পড়াতে বা ভর্তি কোচিং করাতে পারবেন না।

৭। যিনি যে শ্রেণি/শাখার শিক্ষক তিনি ঐ শাখার কোন ছাত্র-ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না।

৮। একাডেমির শিক্ষকদের ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির  ছাত্র-ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানো সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তাছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের ৫ম শ্রেণির কোন ছাত্র-ছাত্রীকে এককভাবে, ব্যাচে বা কোন কোচিংয়ে পড়াতে পারবেন না। তাঁরা মালেকা একাডেমির চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি বাদে অন্যান্য শ্রেণির বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ৫ম শ্রেণি বাদে সর্বোচ্চ তিনটি টিউশনি (ব্যাচ নহে) করতে পারবেন।

৯। শিক্ষকের পরিবারের কোন সদস্য মালেকা একাডেমির কোন ছাত্র-ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে শিক্ষক সহায়তা বা উদ্বুদ্ধ করেছেন বলে প্রতীয়মান হবে।

১০। একাডেমিতে কর্মরত কোন শিক্ষক/কর্মচারী অন্য কোন প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, ক্লাব বা সংস্থার সংগে কোন কার্যক্রমে জড়িত থাকতে পারবেন না।

১১। একাডেমির কোন তথ্য বাইরের কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বা একাডেমির কর্তৃত্বপ্রাপ্ত নয় এমন কারো কাছে প্রকাশ করা যাবে না।

১২। শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব বজায় রাখতে হবে। কোন অবস্থাতেই অন্য শিক্ষক-কর্মচারীর সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হওয়া যাবে না। কোন সমস্যা হলে কর্তৃপক্ষের কাছে মিমাংসার জন্য উপস্থাপন করতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে দলাদলি করা যাবে না।

১৩। একাডেমির জরুরী প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে জারীকৃত নির্দেশাবলী পালন বাধ্যতামূলক।

(০১নং কলাম থেকে ১৩নং কলামে নির্দেশিত নিয়মাবলির দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক চাকুরীচ্যূত হবেন।)
(১৪নং কলাম থেকে ৪১নং কলামে নির্দেশিত নিয়মাবলির দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ০১ দিনের বেতন কর্তন করা হবে।)

১৪। শ্রেণি শিক্ষককে ১৫ মিনিট পূর্বে হাজিরা খাতাসহ নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে হবে এবং একাডেমির নিয়মানুযায়ী শিক্ষার্থীদের  আসন বিন্যাস করতে হবে। কোন অবস্থাতেই কাউকে বিশেষ সুযোগ প্রদান করা যাবে না।

১৫। যথা সময়ে প্রাত্যহিক সমাবেশে  শিক্ষার্থীদের  সুশৃঙ্খলভাবে গমনাগমন নিশ্চিত করতে হবে।

১৬। এসেম্বলি শেষে স্ব স্ব শ্রেণিতে পাঠদানে নিয়োজিত থাকতে  হবে।

১৭। দৈনিক পাঠদানের  বিষয়বস্তু সম্মন্ধে শিক্ষক পূর্বেই ধারণা লাভ করবেন এবং নির্দেশিত পাঠদান পদ্ধতি অনুসরণ করবেন।

১৮। পরবর্তী ঘন্টা না পড়া পর্যন্ত শিক্ষক  ক্লাসে অবস্থান করবেন এবং শ্রেণি শৃঙ্খলা বজায় রেখে কক্ষ ত্যাগ করবেন।

১৯। ক্লাসের ঘন্টা পড়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে হবে।

২০। পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্রেণিতে পাঠদান করতে হবে।

২১। শ্রেণিতে পাঠদানকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা  যাতে পাঠদান বিষয়ে বুঝতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে এবং  শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশ বজায় রেখে  পাঠ্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

২২। কোন অবস্থায়ই শ্রেণিকক্ষে শ্রেণীর কাজ ব্যতীত অন্য কোন কাজ করা যাবে না।

২৩। যে শিক্ষার্থী  পড়া লিখে নিতে পারে না তার পড়া লিখে দিতে হবে।

২৪। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে সততা, নিয়মশৃংঙ্খলা, শ্রদ্ধাবোধ, ধর্মীয় চেতনা , সৌজন্যবোধ প্রভৃতি বিষয়ে সুশিক্ষা প্রদান করবেন।

২৫। বার্ষিক পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার যথাসম্ভব ০১ মাস পূর্বে সিলেবাস সম্পন্ন করতে হবে। ১ম ও ২য় সাময়িক পরীক্ষার নির্ধারিত সিলেবাস পরীক্ষা আরম্ভের ১৫ দিন পূর্বে সমাপ্ত করতে হবে।

২৬। নার্সারি থেকে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত কোন সাজেশন দেওয়া যাবে না।

২৭। ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অবশ্যই মোবাইল ফোন বন্ধ রাখবেন। ক্লাসে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হবে। ক্লাস না থাকলে ব্যবহার করা যাবে।

২৮। কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতিতে বছরে ১৫ দিন নৈমিত্তিক  ছুটি ভোগ করা যাবে। এক সাথে  সর্বোচ্চ ০৫  দিনের বেশী ছুটি মঞ্জুর করা হবে না এবং কর্তৃপক্ষের মঞ্জুরি সাপেক্ষে ছুটি ভোগ করতে হবে। 

২৯। স্বাস্থ্যগত কারণে রেজিষ্টার্ড ডাক্তারের সার্টিফিকেট সাপেক্ষে বছরে একসাথে সর্বোচ্চ ১০ দিন ছুটি মঞ্জুর করা যাবে।

৩০। একাডেমিতে অনুষ্ঠিত যে কোন সভায় অবশ্যই মোবাইল ফোন সাইলেন্ট রাখতে হবে। বিশেষ    প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে বাহিরে গিয়ে কথা বলতে হবে।

৩১। দীর্ঘ ছুটির পরে একাডেমি খোলার আগের দিন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়ে একাডেমিতে উপস্থিত হতে হবে।

৩২। ক্লাস চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন ক্লাস শুরু হওয়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট পূর্বে একাডেমিতে উপস্থিত থাকতে হবে। তিন দিনের বিলম্বে উপস্থিতির জন্য ০১ দিনের বেতন কর্তন করা হবে।

৩৩। রিসিপশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্লাস শুরুর ৪৫ মিনিট পূর্বে অবশ্যই একাডেমিতে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যর্থতায় ০৩ দিনের বিলম্বে উপস্থিতির জন্য ০১ দিনের বেতন কর্তন করা হবে।

৩৪। নার্সারি থেকে ২য় শ্রেণি পর্যন্ত ছুটির সময় প্রত্যেক শিক্ষককে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। ঐ সময়ে যেসব শিক্ষকের ক্লাস থাকবে না তাঁরা বারান্দায় ও গেটে উপস্থিত থেকে সুশৃংঙ্খলভাবে শিক্ষার্থী বহির্গমনের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

৩৫। বাড়ীর কাজের বিষয়ে শিক্ষকদের যতœবান হতে হবে। সতর্কতার সাথে শিক্ষার্থীর  পড়া আদায় ও বাড়ীর কাজ সংশোধন করতে হবে।

৩৬। দৈনিক বাড়ির কাজ বা পড়ার অগ্রগতি/ত্রুটিসমূহ ডায়েরিতে লিখে তা অভিভাবককে অবহিত করতে হবে।

৩৭। ক্লাস চলাকালীন সময়ে শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যকার কোন হট্টগোলের জন্য দায়িত্ব পালনরত শিক্ষক দায়ী থাকবেন।

৩৮। প্রতি শনিবার সাপ্তাহিক পরীক্ষা নিতে হবে।

৩৯। ছাত্র-ছাত্রীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, শ্রেণিকক্ষ এবং তার আশ-পাশের পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার দিকে শ্রেণি শিক্ষক সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।

৪০। সংশ্লিষ্ট শ্রেণির ক্লাস ছুটি হলে প্রথমে ভ্যানগাড়ীর ও পরে হাটার শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে গমন এবং পরিবহন ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত পরিবহন ভ্যানে যাওয়া নিশ্চিত করার দায়িত্ব শেষ ক্লাসের শিক্ষকের উপর বর্তাবে।

৪১। তিন দিন নির্ধারিত সময়ের পূর্বে  একাডেমি ত্যাগ করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারীর   ০১ দিনের বেতন কর্তন করা হবে।

৪২। সিলেবাস প্রণয়নে বিষয় শিক্ষক সম্পূর্ণরূপে দায়ী থাকবেন। কোন ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হলে সেক্ষেত্রে পূর্বেই অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করে তা সংশোধন করতে হবে। ব্যর্থতায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৪৩। নিয়োগ প্রাপ্তির পর ২ বছর পর্যন্ত শিক্ষক/কর্মচারীর চাকুরী সম্পর্ণ অস্থায়ী বলে গণ্য হবে। প্রোভিশনাল পিরিয়ডে তিনি একাডেমির নিয়ম-শৃংখলা ভঙ্গ করলে চাকুরীচ্যূত হবেন।

৪৪। এ্যাক্টিং চেয়ারম্যান/অধ্যক্ষের বিনানুমতিতে ক্লাস চলাকালীন সময়ে অন্য কোন ক্লাসের শিক্ষক বা বহিরাগতদের সাথে কথা বলা যাবেনা। এক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ হলে প্রাথমিকভাবে ৩ দিনের বেতন কর্তন করা হবে এবং পরবর্তীতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হবে।                      

৪৫। কোন অনুপস্থিত শিক্ষার্থীকে উপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ০৩ দিনের বেতন কর্তন করা হবে।

৪৬। পরীক্ষার সময় কোন শিক্ষার্থীকে উত্তর প্রদানে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাডেমির নিয়মানুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে চাকুরীচ্যুত করা যাবে।

৪৭। পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষণের দায়িত্ব যথাযথভাবে  পালন করতে হবে। এ বিষয়ে গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে পরীক্ষার প্রাপ্য সম্মানী দেওয়া হবে না।

৪৮। পূর্বানুমতি ব্যতীত অনুপস্থিত দিন বা দিনগুলোর বেতন কর্তন করা হবে।

৪৯। শিক্ষক-সভা বা একাডেমির কোন অনুষ্ঠানে নিয়ম-শৃঙ্খলা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। সভাপতির পূর্বানুমতিতে পর্যায়ক্রমে মতামত পেশ করতে হবে। অনুষ্ঠান চলাকালিন সময়ে সহকর্মীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক বা ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। ব্যর্থতায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদ্বয়ের ০৩ দিনের বেতন কর্তন করা হবে।

৫০। এ্যাসেম্বলিতে বা কোন অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকার প্রতি কোনরূপ অসম্মান, অবজ্ঞা বা অবহেলা প্রদর্শিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ০৩ দিনের বেতন কর্তন করা হবে।

 

 

[বিঃ দ্রঃ উল্লেখিত নিয়মাবলী/নিয়মাবলীসমূহ পর পর ৩ বার ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারী চাকুরীচ্যূত হবেন।]